বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে একটি কাঁচা সড়কে অস্থায়ীভাবে ইট বিছিয়ে তা সফর শেষ হওয়ার পর আবার তুলে নেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পাকা সড়কের অপেক্ষায় থাকা এলাকাবাসীর আশা ভঙ্গ হয়েছে।
জানা গেছে, নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চৌকির খাল হয়ে প্রধানমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার কাঁচা সড়ক পাকাকরণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) থেকে ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়েও মূল কাজ শুরু না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে তড়িঘড়ি করে সড়কে ইট বিছিয়ে চলাচল উপযোগী করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষ হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যেই সেই ইটগুলো আবার তুলে নেওয়া হয়। পরে এ সংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
স্থানীয়দের দাবি, ইট তুলে নেওয়ার ফলে আবারও কাঁচা সড়ক দিয়ে চলাচলে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, সাময়িক সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য এমন উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী উন্নয়নের কাজ এখনো শুরু হয়নি।
এলজিইডির বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুজ্জামান জানান, সড়কটি পাকা করার জন্য আগেই ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের সুবিধার্থে অস্থায়ীভাবে ভাড়ায় আনা ইট দিয়ে সোলিং করা হয়েছিল এবং কাজ শেষ হওয়ার পর সেই ইট নিয়ম অনুযায়ী ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, বাগবাড়ি-সোনাহাটা সড়ক থেকে জিয়াবাড়ি পর্যন্ত সংযোগ সড়কের উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যাদেশ গত বছরের আগস্টে দেওয়া হলেও এখনো মূল নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্পের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই স্থায়ী উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করা হবে।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!