মানবসভ্যতার অস্তিত্ব, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে পরিবেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। একটি দেশের উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয়, যখন সেই উন্নয়ন প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে এগিয়ে যায়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বর্তমানে একাধিক পরিবেশগত সংকটের মুখোমুখি। দ্রুত শিল্পায়ন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জনসচেতনতার অভাব, অতিরিক্ত প্লাস্টিক ব্যবহার, কৃষিতে রাসায়নিক নির্ভরতা এবং পরিবহন খাতের অনিয়ম পরিবেশকে ক্রমাগত ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ফলে বায়ু, পানি, মাটি ও জীববৈচিত্র্য সবকিছুই আজ হুমকির সম্মুখীন।
পরিবেশ দূষণের অন্যতম প্রধান উৎস হলো শিল্প কারখানা। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে শিল্পায়নের ভূমিকা অনস্বীকার্য হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিবেশগত মানদণ্ড অনুসরণ না করায় শিল্প খাত পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। অনেক কারখানায় বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা থাকলেও তা নিয়মিত ব্যবহার করা হয় না। ফলে রাসায়নিক বর্জ্য, রং, ভারী ধাতু ও বিষাক্ত পদার্থ সরাসরি নদী-খাল ও জলাশয়ে ফেলা হয়। এর ফলে পানির গুণগত মান নষ্ট হয় এবং জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ে।
বিশেষ করে নদীকেন্দ্রিক শিল্পাঞ্চলগুলোতে দূষণের মাত্রা উদ্বেগজনক। শিল্প বর্জ্যের কারণে অনেক নদীর পানি কৃষি, মাছ চাষ কিংবা গৃহস্থালি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাওয়ায় মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর মৃত্যু ঘটছে। একই সঙ্গে দূষিত পানি মানবদেহে প্রবেশ করে কিডনি, লিভার ও ত্বকের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের নামে যদি পরিবেশের এই ক্ষতি অব্যাহত থাকে, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এর ভয়াবহ মূল্য দিতে হবে।
পরিবেশ সংকটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো জনগণের অসচেতনতা। পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়; এটি প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অনেক মানুষ এখনো যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলে, জলাশয় দখল করে, বৃক্ষ নিধন করে কিংবা পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে। পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কে পর্যাপ্ত -
শিক্ষা ও সচেতনতার অভাবে সাধারণ মানুষ অনেক সময় নিজেদের কর্মকাণ্ডের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে অবগত নয়।
সচেতনতার অভাবের সবচেয়ে বড় উদাহরণ দেখা যায় প্লাস্টিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে। বর্তমানে প্লাস্টিক আধুনিক জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। বাজার, দোকান, বাসাবাড়ি, অফিস কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সবখানেই একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু ব্যবহারের পর অধিকাংশ প্লাস্টিক যথাযথভাবে পুনর্ব্যবহার করা হয় না। ফলে তা পরিবেশে জমা হতে থাকে এবং দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ দূষণ সৃষ্টি করে।
প্লাস্টিকের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এটি সহজে পচনশীল নয়। একটি প্লাস্টিক ব্যাগ বা বোতল সম্পূর্ণরূপে মাটির সঙ্গে মিশতে শত শত বছর সময় লাগতে পারে। এই প্লাস্টিক মাটির নিচে জমে মাটির স্বাভাবিক গঠন নষ্ট করে, পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে এবং কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেয়। এছাড়া নদী ও সাগরে গিয়ে জমা হওয়া - প্লাস্টিক সামুদ্রিক প্রাণীর জন্য মারাত্মক হুমকি - সৃষ্টি করছে। অনেক মাছ, কচ্ছপ ও সামুদ্রিক