প্রিয় পাঠক।
বর্ষার আগমনী সুরে মুখরিত জুন আমাদের জাতীয় জীবনে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। প্রকৃতির নবজাগরণের এই সময়ে জাতির সামগ্রিক অগ্রগতি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রশ্নও নতুন করে সামনে এসে দাঁড়ায়। নতুন অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার প্রাক্কালে প্রত্যাশা থাকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে শিক্ষা। কারণ শিক্ষা কেবল ব্যক্তিগত উন্নতির সোপান নয়, এটি একটি জাতির সভ্যতা, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি। যুগোপযোগী শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে মানবসম্পদকে জাতীয় সম্পদে পরিণত করাই হওয়া উচিত আগামীর বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য।
আমরা স্মরণ করি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি ফররুখ আহমদ কে। তাঁর কাব্যে যেমন ছিল আত্মমর্যাদার দীপ্ত আহ্বান, তেমনি ছিল মানবিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক চেতনার উজ্জ্বল প্রকাশ। বর্তমান প্রজন্মের নৈতিক ও সাহিত্যিক বিকাশে তাঁর জীবন ও কর্ম হতে পারে অনুপ্রেরণার এক অফুরন্ত উৎস।
অন্যদিকে পরিবেশ বিপর্যয়ের ভয়াবহতা আজ বিশ্ববাসীর জন্য এক কঠিন বাস্তবতা। জলবায়ু পরিবর্তন, নদী দখল, বনভূমি ধ্বংস এবং দূষণের ক্রমবর্ধমান বিস্তার আমাদের অস্তিত্বের জন্যই হুমকি হয়ে উঠছে। প্রকৃতির সঙ্গে সংঘাত নয়, সহাবস্থানই হতে পারে এ সংকট উত্তরণের একমাত্র পথ। পরিবেশ সংরক্ষণকে জাতীয় দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করতে হবে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র সকল স্তরে।
ইতিহাসের দীর্ঘ পরিক্রমায় পলাশীর বিপর্যয় আমাদের পরাধীনতার সূচনা স্মরণ করিয়ে দেয়, আর চব্বিশের ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থান নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন, সাহস ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে ওঠে। পলাশী থেকে চব্বিশ, এই যাত্রাপথ আমাদের শিক্ষা দেয় যে জনগণের শক্তিই ইতিহাসের গতিপথ নির্ধারণ করে। নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা নির্মিত হবে ন্যায়, সাম্য, জবাবদিহিতা ও মানবিক মর্যাদার ভিত্তির ওপর।
এদিকে ফুটবলের উন্মাদনা বিশ্বকে এক অভিন্ন আবেগের বন্ধনে আবদ্ধ করে। খেলাধুলা আমাদের শেখায় শৃঙ্খলা, সহমর্মিতা ও সুস্থ প্রতিযোগিতার মূল্য। সাথে এবারের বিশ্বকাপ কোন দেশের অর্জন হয় সেটি দেখার অপেক্ষায় ফুটবল প্রেমী সমাজ।